
শিরক
শিরক আরবি শব্দ "شرك" থেকে নেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে অংশীদার স্থাপন করা।
ইসলামের পরিভাষায়, শিরক বলতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে বা অন্য কিছুকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা বা অন্য কাউকে তাঁর সমকক্ষ ও অংশীদার করাকে বুঝায়। এটা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস তথা তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদের বিপরীত। শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম ও অন্যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিরক তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ বা ইবাদাতের ক্ষেত্রে শিরক করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, আল্লাহর সাথে অন্যকে ডাকা অথবা ইবাদাতের মধ্য থেকে কোন প্রকারের ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য সম্পাদন করা। যেমন, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কুরবানী ও মানত করা, আল্লাহকে ভালবাসার মত অন্যকে ভালবাসা, ভয় করা ও তার প্রতি আশা করা ইত্যাদি।
শিরককে প্রধানত দুই প্রকার। যথা : ১) বড় শিরক (শিরকুল আকবার) এবং ২) ছোট শিরক (শিরকুল আসগার)
শিরক সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সচেতন হওয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সেই সাথে সততার সাথে জীবন গড়ার এবং সর্বোপরি আল্লাহর নিকট দোয়া করার মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে শিরক থেকে বাঁচাতে পারবো।
শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ
শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। কেননা –
১) শিরকের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে তাঁর সৃষ্টির সাদৃশ্য ও তুলনা করা হয়। আর এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম বা সীমালঙ্ঘন। এ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী -
অর্থ : “নিশ্চয় শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম বা সীমালঙ্ঘন”। (সূরা লুকমান, আয়াত নং ১৩)
২) যে ব্যক্তি শিরক থেকে তাওবা করবে না মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহর বাণী -
অর্থ : “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না, তাছাড়া অন্য যে কোন অপরাধ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত নং ৪৮)
৩) শিরক সকল প্রকার নেক আমল নষ্ট করে দেয়। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী -
অর্থ : "তারা (নবীগণ) যদি শিরক করত তবে তাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যেত।” (সূরা আল আনআম, আয়াত নং ৮৮)
৪) মুশরিকদের রক্ত ও সম্পদ হালাল বা বৈধ। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
অর্থ : "আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের সাথে লড়াই করতে যতক্ষণ তারা একথা না বলবে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্য মা'বুদ বা ইলাহ নেই। যখন তারা একথা বলবে, তখন তারা আমার হাত থেকে রক্ত ও সম্পদ রক্ষা করে নিবে। অবশ্য ইসলামের হক্ক যদি তা দাবী করে, তবে সেটা আলাদা কথা।” - (বুখারী ও মুসলিম)
৫) শিরক সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
অর্থ : "আমি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুণাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না? আমরা (সাহাবীরা) বললাম, নিশ্চয় হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।" (বুখারী ও মুসলিম)
শিরকের প্রকারভেদ
শিরককে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা হয়। যথা : ১) বড় শিরক (শিরকুল আকবার) এবং ২) ছোট শিরক (শিরকুল আসগার)
১) বড় শিরক (শিরকুল আকবার):
বড় শিরক বা শিরকুল আকবার বলতে বুঝায়, যে শিরক মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় এবং সে যদি তাওবা না করে মৃত্যু বরণ করে, তবে তাকে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
বড় শিরকের মধ্যে রয়েছে:
(ক) আল্লাহ ছাড়া অন্যকে উপাস্য মানা: যেমন, মূর্তিপূজা, গ্রহ-নক্ষত্র পূজা, জিন পূজা ইত্যাদি।
(খ) আল্লাহর নাম ছাড়া অন্যের কাছে দোয়া করা: যেমন, পীর, গাউস, কুতুব বা নবীর কাছে দোয়া করা ইত্যাদি।
(গ) আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য কুরবানি করা: যেমন, মূর্তি, জিন, পীর, দেবতার জন্য কুরবানি করা ইত্যাদি।
(ঘ) আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য মানত করা: যেমন, মূর্তি, কবর, জিন, ফেরেশতা বা নবীর নামে মানত করা ইত্যাদি।
২) ছোট শিরক (শিরকুল আসগার):
ছোট শিরক বা শিরকুল আসগার বলতে বুঝায়, যে শিরক মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, তবে তাওহীদের মধ্যে ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা নিয়ে আসে এবং যা ব্যক্তিকে আস্তে আস্তে বড় শিরকের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম বা উসিলা হয়।
ছোট শিরককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: (ক) প্রকাশ্য শিরক ও (খ) গোপন শিরক।
(ক) প্রকাশ্য শিরক:
এটা দুই ভাবে হতে পারে-
১। কথা বা উক্তির মাধ্যমে শিরক: যেমন, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে অবশ্যই কুফরী করল অথবা শিরক করল।" (তিরমিযী)
২। কাজ বা কর্মের মাধ্যমে শিরক: যেমন, বিপদ দূর করার জন্য আংটি বা সূতা ব্যবহার করা, বদনজর থেকে বাঁচার জন্য ভয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে রাখা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: "ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবজ এবং ভালবাসা সৃষ্টির তাবিজ ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক।" (আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)
যদি অন্তরে এই বিশ্বাস রখে যে, এই সমস্ত বস্তু বিপদ আপদ দূর করার মাধ্যম মাত্র, তাহলে তা ছোট শিরক বলে গণ্য হবে। কেননা, আল্লাহ তা'য়ালা এইগুলিকে ঐ কাজের মাধ্যম হিসাবে সাব্যাস্ত করেননি। আর যদি মনে এই বিশ্বাস রাখে যে, এই সমস্ত বস্তু নিজেই বিপদ দূর করতে পারে, তা'হলে তা বড় শিরক বলে গণ্য হবে। কেননা, সে এ কাজগুলি আল্লাহ ছাড়া ঐ সমস্ত বস্তুর উপর নির্ভর করেছে।
(খ) গোপন শিরক (শিরকুল খাফি):
গোপন শিরক মানুষের নিয়ত ও ইচ্ছার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এটি বড় শিরকও হতে পারে এবং ছোট শিরকও হতে পারে। যেমন, কোন কাজ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বা সুনাম অর্জনের জন্য করা। যেমন, সুন্দরভাবে নামাজ পড়া, প্রকাশ্যে দান-সাদকাহ করা যেন মানুষ তার প্রশংসা করে। অথবা, জোরে জোরে দোয়া ও যিকির করা কিংবা সুন্দর কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করা যেন মানুষ শুনে তার প্রশংসা করে ইত্যাদি। কোন আমলের মধ্যে লোক দেখানো উদ্দেশ্য হলে তা বাতিল হয়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
অর্থ: "আমি তোমাদের প্রতি সবচেয়ে বড় ভয় করি ছোট শিরকের। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, ছোট শিরক কি? তিনি উত্তরে বললেন, তা হলো রিয়া বা লোক দেখানো কাজ বা আমল।" (আহমদ, ত্বাবারানী)
শিরকের পরিণাম
শিরক ইসলামের সবচেয়ে বড় গুণাহ। আল্লাহ তা'য়ালা শিরককারীকে ক্ষমা করেন না।
১। মহান আল্লাহ বলেন,
অর্থ : “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সংগে শরীক করবে আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং তার স্থান হবে জাহান্নাম। আর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা আল মায়েদা, আয়াত নং ৭২)
২। হাদিসে রয়েছে,
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদীয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" (সহীহ আল-বুখারী)
বড় শিরক (শিরকে আকবার) ও ছোট শিরক (শিরকে আসগার) এর মধ্যে পার্থক্য
বড় শিরক ও ছোট শিরক এর মধ্যে কয়েকটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১) বড় শিরক ব্যক্তিকে ইসলামী মিল্লাত থেকে খারিজ বা বের করে দেয়, আর ছোট শিরক ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না।
২) বড় শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে, আর ছোট শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি যদিও জাহান্নামে প্রবেশ করলেও চিরস্থায়ীভাবে থাকবে না।
৩) বড় শিরক ব্যক্তির সমস্ত নেক আমল নষ্ট করে দেয়, আর ছোট শিরক সমস্ত নেক আমল নষ্ট করে দেয় না। তবে কোন আমল লোক দেখানো কিংবা দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করলে ব্যক্তির সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে।
৪) বড় শিরককারী ব্যক্তির রক্ত ও সম্পদ মুসলমানদের জন্য গ্রহণ করা বৈধ, আর ছোট শিরককারী ব্যক্তির রক্ত ও সম্পদ মুসলমানদের জন্য গ্রহণ করা বৈধ নয়।
শিরক থেকে মুক্ত থাকার উপায়
শিরক থেকে মুক্ত থাকা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিরক আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন, যা ইসলামের মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
শিরক থেকে মুক্ত থাকার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
১। তওহীদের জ্ঞান অর্জন:
(ক) আল্লাহর নাম, গুণাবলী ও কর্ম সম্পর্কে জানা।
(খ) তাওহীদের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
(গ) তাওহীদের বিপরীত শিরক তা অনুধাবন করা।
২। আল্লাহর প্রতি ভীতি ও আশা স্থাপন:
(ক) আল্লাহর প্রতি ভীতি ও গভীর শ্রদ্ধা থাকা।
(খ) আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার প্রতি আশাবাদী থাকা।
(গ) আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস ও ভরসা রাখা।
৩। আল্লাহর নির্দেশাবলী মেনে চলা:
(ক) আল্লাহর নাজিলকৃত কিতাব কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ মেনে চলা।
(খ) আল্লাহর নির্দেশাবলী ও আইন-কানুন মেনে চলা।
(গ) আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকা।
৪। শয়তানের প্রতিরোধ:
(ক) শয়তানের প্ররোচনা ও কুমন্ত্রণা থেকে সতর্ক থাকা।
(খ) শয়তানের প্রতিরোধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।
(গ) শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক পথে চলা।
৫। সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপন:
(ক) সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও নীতিবান জীবনযাপন করা।
(খ) অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক হওয়া।
(গ) সমাজে ভালো কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
৬। জ্ঞান ও প্রচারণা:
(ক) নিজে তাওহীদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি অন্যদেরও তাওহীদের শিক্ষা দেওয়া।
(খ) শিরকের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
(গ) সমাজে তাওহীদের প্রচারণা ও প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা।
শিরক থেকে বাঁচার দোয়া
আবূ বকর ছিদ্দিক রাদীয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, "আমি তোমাকে একটি বিষয় শিখিয়ে দিচ্ছি যা পালন করলে ছোট শিরক ও বড় শিরক তোমার থে কে দূরীভূত হবে। তুমি নীচের এই দোয়টি বলবে -
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি জ্ঞাতসারে শিরক করা থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং অজ্ঞাতসারে যা ঘটে তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। (আল-আদাবুল মুফরাদ)
উপসংহার
শিরক হল আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক বা অংশীদারীত্ব স্থাপন করা যা পাপের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং ভয়ঙ্কর। বড় এবং ছোট শিরক সহ বিভিন্ন ধরণের শিরক রয়েছে। শিরকের এই সমস্ত পাপ এড়ানোর জন্য আমাদেরকে সচেতন হওয়া দরকার। শিরক সম্পর্কে সচেতন হওয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সাথে আমাদের দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং শিরকের ফাঁদে পড়া থেকে বাঁচতে পারবো। মনে রাখতে হবে যে, সমস্ত ইবাদাত, ভয় এবং ভক্তি একমাত্র আল্লাহর জন্যই সাব্যাস্ত করতে হবে। শিরক থেকে মুক্ত থাকা একটি সার্বক্ষণিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর প্রতি সচেতন থাকা এবং তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলার চেষ্টা করার সাথে সাথে শিরকের বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তা থেকে দূরে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। সবশেষে, শিরক থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টি লাভ করতে, জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে যেতে পারবো।
0 মন্তব্যসমূহ