
বিদআত
বিদআত আরবি শব্দ 'আল-বিদয়াহ' (البداية) শব্দ হতে উৎপত্তি যার অর্থ হলো পূর্বের কোনো দৃষ্টান্ত বা নমুনা ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি করা, উদ্ভাবন করা বা নতুন করে শুরু করা।
কুরআন মাজিদে মহান
আল্লাহকে 'বাদীউস সামাওয়াতি ওয়াল
আরদ' বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো "পূর্বের কোনো নমুনা ছাড়াই আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা।" - (সূরা আল বাকারা: আয়াত নং ১১৭)
এই আভিধানিক অর্থে
পার্থিব কোন নতুন আবিষ্কার যেমন- বিমান, মাইক, ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হলেও ইসলামী
পরিভাষায় বিদআত বলতে তা উদ্দেশ্য করা হয় না।
ইসলামি পরিভাষায়, বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে এমন বিশ্বাস, কথা বা কাজ তৈরি
করা, যা শরীয়তসম্মত দলিল (কুরআন বা সহীহ সুন্নাহ) দ্বারা সমর্থিত নয়
এবং যার ভিত্তি রাসূল (সাঃ)-এর সময়কালে বা সাহাবায়ে কেরামের আমলে ছিল না।
মূলত, এটি হচ্ছে ইবাদতের ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি বা আমল যুক্ত করা, যা দ্বারা
আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করা হয়, কিন্তু তা ইসলামের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি
ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হলো, ইবাদত (উপাসনা) শুধুমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশিত পদ্ধতিতেই করতে হবে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(ক) 'আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, "যে ব্যক্তি এমন কাজ করলো যা আমাদের নির্দেশনা নাই, তা
প্রত্যাখ্যাত।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭১৮)
(খ) তিনি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন, "আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ্য করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাত ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা অবশ্যই বিদ‘আত কাজ পরিহার করবে। কারন, প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।" - (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৪২)
বিদআতের প্রকারভেদ
বিদআতকে প্রধানতঃ ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। পার্থিব বিষয়ে বিদআত: এটি দীনের অংশ নয়, বরং জীবনের চলার জন্য নতুন আবিষ্কার ও পদ্ধতি। যেমন- গাড়ি, ঘড়ি ইত্যাদি যা শরীয়তে নিষিদ্ধ নয় এবং তা বৈধ ও হালাল। শরীয়তের পরিভাষার এটি বিদআত নয়।
২। দীনের ক্ষেত্রে বিদআত: যা উপাসনা বা বিশ্বাসের
ক্ষেত্রে তৈরি করা হয়। এটিই শরীয়তের পরিভাষার বিদআত। সাধারণত এর দুটি মূল ভাগ দেখা
যায়:
(ক) আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত: নতুন কোনো বিশ্বাস
বা মতবাদ তৈরি করা, যা কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক আকীদার পরিপন্থী। যেমন- কিছু বাতিল ফিরকার
আকীদা।
(খ) আমলের ক্ষেত্রে বিদআত: নতুন কোনো ইবাদত
বা ইবাদতের নতুন পদ্ধতি, সংখ্যা বা সময় উদ্ভাবন করা যা পূর্বে ছিল না। যেমন- আল্লাহ
আদেশ দেননি বা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেননি এমন বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা।
সংক্ষেপে, আমলের ক্ষেত্রে বিদআত সাধারণত কাজের সাথে সম্পর্কিত; যেমন নতুন
করে সালাত বা সিয়াম আবিষ্কার করা। আর আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত হলো বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত;
যেমন আল্লাহর গুণাবলী বা ক্ষমতা নিয়ে ভুল মতবাদ পোষণ করা।
উল্লেখ্য, কিছু আলেম বিদআতকে 'বিদআতে হাসানা' (ভালো বিদআত) এবং 'বিদআতে সাইয়্যিআহ' (মন্দ বিদআত)-এ ভাগ করলেও, সালাফী ধারার আলেমগণ উপরিউক্ত হাদীসগুলির ভিত্তিতে (সকল বিদআতই ভ্রষ্টতা) দীনের মধ্যে সব ধরনের নতুন সৃষ্টিকেই বর্জনীয় মনে করেন।
আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত
আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত বলতে বোঝায় ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস (আকীদা) বা মতবাদসমূহের
মধ্যে নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবন করা, সংযোজন করা অথবা এমন কোনো বিশ্বাস গ্রহণ করা, যার
ভিত্তি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহতে নেই।
সংক্ষেপে, এটি হলো এমন নতুন বিশ্বাস বা ধারণা যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কিরামের (রাঃ) আমলে দীনের অংশ হিসেবে প্রচলিত ছিল না
আকীদার (বিশ্বাস বা ধর্মীয় মতবাদ) ক্ষেত্রে বিদআত হলো দীনের মধ্যে উদ্ভাবিত সেই সব বিষয়, যা দ্বারা আল্লাহ এবং তাঁর গুণাবলী, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, পরকাল ও তাকদীর (ভাগ্যে বিশ্বাস)—এই ঈমানের ছয়টি স্তম্ভের কোনোটির সাথে সাংঘর্ষিক নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ
আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত জন্ম দিয়েছে ইসলামে বিভিন্ন ভ্রান্ত দল বা ফিরকার।
নিচে এর কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:
১। আল্লাহর গুণাবলী নিয়ে মতবাদ:
জাহমিয়া/মু'তাযিলাদের কিছু বক্তব্য: আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী) বা নামসমূহকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যা কুরআন ও সুন্নাহর স্পষ্ট অর্থের পরিপন্থী। যেমন, আল্লাহর হাতকে (যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন) কেবল "শক্তি" বা "ক্ষমতা" বলে ব্যাখ্যা করা। এছাড়া আল্লাহর নাম ও গুণাবলীকে (তাওহীদুল আসমে ওয়া সিফাত) অস্বীকার করা যা জাহমিয়ারা করে থাকে ইত্যাদি।
২। তাকদীর (ভাগ্য) নিয়ে চরমপন্থী মতবাদ:
কাদরিয়াদের কিছু বক্তব্য: বান্দা তার ইচ্ছা ক্ষমতা মোতাবেক তার কাজকর্মে স্বাধীন ও স্বনির্ভর এবং তাতে আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তির কোনো প্রভাব নেই—এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
জাবরিয়াদের কিছু বক্তব্য: বান্দা তার ভাগ্যের লিখন অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য এবং বান্দার তাতে কোনো প্রকার ইচ্ছাশক্তি বা কাজ করার ক্ষমতা নেই—এমন বিশ্বাস পোষণ করা।
সঠিক আকীদা: মানুষ আল্লাহর অনুমতিক্রমে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি
প্রয়োগ করে কাজ করে এবং তার কাজের জন্য সে দায়ী। এই বিশ্বের সমস্ত মানুষ আল্লাহরই
গোলাম বা দাস এবং সমস্ত বিশ্বজগতের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ তা'আলা। কাজেই তাঁর অনুমতি
ও ইচ্ছা ছাড়া তাঁর রাজত্বে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারোর নেই।
৩। শাফায়াত (সুপারিশ) ও অসীলা নিয়ে বাড়াবাড়ি:
কবরবাসীর কাছে সরাসরি প্রার্থনা বা সাহায্য চাওয়া: আল্লাহর পরিবর্তে বা
তাঁর পাশাপাশি কোনো মৃত ব্যক্তি, পীর বা ওলীর কাছে দোয়া করা বা তাদের কাছে সাহায্য
চাওয়া। এটি কখনও কখনও শির্ক (শিরক বা অংশীদারিত্ব) পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
৪। ঈমান নিয়ে মতবাদ:
ঈমানের সংজ্ঞা, পরিমাণ বা কর্মের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে চরমপন্থী বা শৈথিল্যমূলক
নতুন মতবাদ তৈরি করা।
এক কথায়, আকীদার ক্ষেত্রে বিদআত হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর
সুন্নাহর বাইরে গিয়ে ঈমানের মূল বিষয়গুলোতে নতুন কোনো চিন্তা, বিশ্বাস বা মতবাদ স্থাপন
করা।
আমলের ক্ষেত্রে বিদয়াত
আমলের ক্ষেত্রে বিদআত বলতে বোঝায় আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে এমন
কোনো কাজ বা পদ্ধতি দীনের মধ্যে উদ্ভাবন করা, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবায়ে কেরামের
আমলে ছিল না এবং যার শরীয়তসম্মত কোনো ভিত্তি (কুরআন বা সহীহ সুন্নাহ) নেই।
সংক্ষেপে, এটি হলো এমন নতুন আমল (কাজ) বা পদ্ধতি যা আল্লাহর ইবাদত হিসেবে করা হয়, কিন্তু তা শরীয়ত দ্বারা অনুমোদিত নয়।
আমলের ক্ষেত্রে বিদআত মূলত ইবাদতের ধরণ, সংখ্যা, সময় বা স্থান
পরিবর্তনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ইবাদত বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি হলো— তাওক্বীফী (توقيفي)। এর অর্থ হলো,
ইবাদত কেবলমাত্র ততটুকুই এবং ঠিক সেইভাবেই করা যাবে যতটুকু এবং যেভাবে আল্লাহ বা তাঁর
রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদাহরণ
আমলের ক্ষেত্রে বিদআত সাধারণত নিম্নলিখিত ৫টি প্রধান ক্ষেত্রের কোনো একটিতে
হয়ে থাকে:
১। ইবাদতের মূলনীতি উদ্ভাবন
এমন নতুন কোনো ইবাদত তৈরি করা, যা পূর্বে ছিলই না।
আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোনো নতুন সালাত (নামাজ) বা নতুন ধরনের সিয়াম উদ্ভাবন করা, যা কুরআন-সুন্নাহে নেই।
২। আমলের পদ্ধতি বা ধরণ পরিবর্তন
কোনো শরীয়তসম্মত ইবাদতের আমলের পদ্ধতি বা ধরণ পরিবর্তন করা।
যেমন: বিতর সালাতকে (নামাজ) তিন রাকাতের পরিবর্তে চার রাকাত পড়া অথবা সালাতে
সিজদার আগে রুকু করা (সঠিক নিয়ম পরিবর্তন) ইত্যাদি।
৩। ইবাদতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা (যা শরীয়ত নির্দিষ্ট করেনি)
কোনো ইবাদতের জন্য শরীয়ত কর্তৃক যে বিষয়ের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বা
পরিমাণ নির্ধারণ করা।
যেমন: জিকির-আজকারের ক্ষেত্রে 'সুবহানাল্লাহ' ১০০ বার বলার নির্দেশ আছে।
সেখানে সংখ্যাটি পরিবর্তন করে ৫০০ বার পড়াকে বাধ্যতামূলক মনে করা। অথবা, এমন কোনো
দোয়া বা দরূদকে নির্দিষ্ট সংখ্যক বার পড়তে বলা যার কোনো প্রমাণ নেই।
৪। ইবাদতের সময় বা স্থান পরিবর্তন/নির্দিষ্ট করা
ইবাদতের জন্য এমন কোনো সময়, দিন বা স্থান নির্দিষ্ট করা যা শরীয়ত
অনুমোদন করেনি।
(ক) বছরের নির্দিষ্ট কোনো রাতে বা দিনে সম্মিলিতভাবে ইবাদত করা, যা
রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা সাহাবারা করেননি। যেমন: শবে মি'রাজ উদযাপন।
(খ) নির্দিষ্ট কোনো স্থানে গিয়ে দলবদ্ধভাবে জিকির করা এবং তাতে বেশি নেকি হাসিল হবে মনে করা, যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
বা খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে ছিল না।
৫। ইবাদতের জন্য অতিরিক্ত বা নতুন শর্ত যোগ করা
ইবাদত কবুলের জন্য এমন অতিরিক্ত শর্ত বা বিধান আরোপ করা যা শরীয়ত নির্ধারণ করেনি।
যেমন: হজ্ব বা উমরাহর ক্ষেত্রে কোনো নতুন অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা যোগ করা।
বিদআত কেন বর্জনীয়?
ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদয়াতকে শরীয়তে কঠোরভাবে বর্জন করতে বলা হয়।
এর কারণ হলো:-
(ক) শরীয়তের বিরোধিতা
এটি এই ধারণা দেয় যে, আল্লাহ বা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেননি এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে আরও কিছু যোগ করার প্রয়োজন আছে। অথচ মহান আল্লাহ
বলেছেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম..." (সূরা আল মায়িদাহ: আয়াত নং ৩)।
(খ) প্রত্যাখ্যাত আমল
রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্টভাবে বলে গেছেন, "যে কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।" - সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৯৭।
(গ) ভ্রষ্টতার পথ
বিদআত মানুষকে সুন্নাতের সহজ-সরল পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভ্রষ্টতার দিকে পরিচালিত করে।
উপসংহার
বিদআত হলো দীনের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, যার পক্ষে শরীয়তের কোনো প্রমাণ নেই এবং যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ (সুন্নাহ) ও সাহাবায়ে কিরামের ঐক্যমতের বিরোধী।
ইসলাম ধর্মকে আল্লাহ তা'আলা একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে দান করেছেন।
ইবাদত ও আকীদার ক্ষেত্রে নতুন কিছু সংযোজন করা কার্যত মনে মনে এই বিশ্বাস ধারণ করা যে, ইসলামে কোনো ঘাটতি রয়েছে।
অতএব, আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের সর্বোত্তম ও একমাত্র স্বীকৃত
পথ হলো সুন্নাতের অনুসরণ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই সতর্ক করে
গেছেন যে, "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা"। এই উক্তি ইবাদত বা আকীদা নির্বিশেষে সকল প্রকার বিদআতকে প্রত্যাখ্যান
করার ভিত্তি স্থাপন করে।
উপরন্ত, বিদআত মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভাজন ও মতানৈক্য সৃষ্টি করে। কারণ,
এটি মানুষকে দ্বীনের মৌলিক উৎসের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আবেগ, ধারণা বা মনগড়া অনুশীলনের
দিকে চালিত করে।
তাই একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো দ্বীনের সকল বিষয়ে—তা আকীদা
(বিশ্বাস) হোক বা ইবাদত (আমল) হোক—সর্বদা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর পথ অবলম্বন করা। আমাদেরকে এমন কোনো আমল বা বিশ্বাস
থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে, যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর
সাহাবীদের মাধ্যমে প্রমাণিত নয়। শুধুমাত্র সুন্নাতের অনুসরণই জান্নাতের পথে অবিচল
থাকার নিশ্চয়তা দিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, বিদআত বর্জন কেবল একটি নিষেধ নয়, বরং এটি খাঁটি তাওহীদ এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি শর্তহীন ভালোবাসার প্রকাশ। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সকল প্রকার বিদআত পরিহার করে খাঁটি ও নির্ভেজাল সুন্নাতের উপর চলার তাওফীক দান করুন। আমিন।
0 মন্তব্যসমূহ